মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এমন আভাস দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ঘাটতি ও টেকসই চাহিদার কারণে তামা বা ‘রেড মেটাল’-এর দাম বেশ উঁচুতেই অবস্থান করছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আন্তর্জাতিক ধাতু বাজারকে বেশ স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা বিএমআই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) তামা বাজার যেমন বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা ও শুল্ক ঝুঁকির মুখে পড়বে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ দামে দ্রুত প্রভাব ফেলবে।
তবে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক মন্দার আশঙ্কা থাকলেও তামার মূল চাহিদায় এখনো ভাটা পড়েনি। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজি থিংক জানায়, চীনে তামার মজুদ কমায় এবং আমদানি চাহিদা বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে বাজার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) সম্প্রতি তিন মাস মেয়াদি তামার চুক্তিপ্রতি দাম প্রতি টনে প্রায় ১৩ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত এক মাসে ৫ শতাংশ এবং বছরের শুরুর তুলনায় ১৩ শতাংশের বেশি।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তামার দাম রেকর্ড গড়ে প্রতি টনে ১৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছিল। খনি থেকে উত্তোলনে বাধা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সালফিউরিক এসিডের সম্ভাব্য ঘাটতি এ ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী পরিশোধিত তামার প্রায় ২০ শতাংশ তৈরিতে এ এসিডের প্রয়োজন হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তামা ব্যবহারকারী দেশ চীনেও বিশ্ববাজারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দেশটিতে স্ক্র্যাপ বা ব্যবহৃত তামার ঘাটতি এবং বেশ কয়েকটি শোধনাগারে সংস্কারকাজের কারণে সাময়িক উৎপাদন বন্ধ থাকায় আমদানির চাহিদা তীব্র হয়েছে।
ফলে দেশটিতে তামার আমদানি প্রিমিয়াম বা ইয়াংশান প্রিমিয়াম বছরের শুরুর ২০ ডলার থেকে এক লাফে বেড়ে ১০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গবেষণা সংস্থা বিএমআই তাদের পূর্বাভাস বাড়িয়ে তামার গড় দাম ১২ হাজার ৭০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত প্রসার এবং প্রযুক্তির নতুন অবকাঠামো তৈরিতে তামার ব্যবহার বৃদ্ধি দাম বাড়ার পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ দপ্তর জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং খনি থেকে উত্তোলন কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালজুড়ে তামার বাজার চড়া থাকবে। তবে আগামী কয়েক বছর নতুন নতুন খনি চালু হলে ২০৩১ সাল নাগাদ তামার দাম কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্ক সিদ্ধান্তের পরিষ্কার রূপরেখা ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত ধাতুটির বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।